পাবনায় ইছামতী নদীর তীরের সকল অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার অর্ন্তঃগত করমজা চতুরবাজার থেকে শুরু করে পশ্চিম করমজা, তলট,ছেঁচানিয়া, সরিষা,সোনাতলা ও সাঁথিয়া সহ বেশ কয়েকটি স্থানের প্রায় এক হাজারটির বেশি বসতি সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এসময় মধ্যে করমজা গ্রামের মোঃ নূরুল হক বলেন,আমরা আর কি করবো আমরা তো রোহিঙ্গা এদেশের নাগরিক লয়।

অন্যদিকে পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এসব অবৈধ্য স্থাপনার উচ্ছেদ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। পশ্চিম করমজা গ্রামের ব্রীজ সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার পর দারিদ্রতার কারণে ভিটামাটি বিক্রি করে মাথাগোঁজার ঠাই হিসাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই জায়গাটুকুতে আশ্রয় নিয়েছিলাম।দেশ স্বাধীনের পর থেকেই আওয়ামিলীগ করি। বিএনপির আমনে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদের হুমকি আসছিল কিন্তু উচ্ছেদ করেনাই। ভেবেছিলাম বিএনপির এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। কিন্তু না এখন সবই বুঝতে পারলাম। তার কাছে ঈদের আগে উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলে,আমাগ্যারে ঈদ আছে নাকি, ঈদ এহন ছাই অয়া গেল। পশ্চিম করমজা গ্রামের বসতি ভিটার মাটি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া আঃ সাত্তার (ঝাড়ু বিক্রেতা) বলেন, আমাগ্যারে কোন নোটিশ দেয়নাই।এলাকার নেতারা জোর করে তুলে দিল।
এবিষয়ে,লালচাঁদ ড্রাইভার বলেন, আসলে পৃৃর্ব নোটিশ না রেখে কোন সরকার অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ করতেই পারেনা। যদিও করতে চায় তবে ঈদের এত নিকটে করতে পারেনা। উল্লেখ্য, পশ্চিম করমজা গ্রামের বসতিদের মধ্যে বিএনপি নেতা কেএম হারুন অর রশীদের বাড়িও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবিষয়ে, কেএম হারুন অর রশীদ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে NEWS52 কে তিনি বলেন, কোন নোটিশ না দিয়ে ঈদের এত নিকটে অবৈধ্য উচ্ছেদের নামে যে আচরণ করা হয়েছে তা মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ব্যতীত কিছুই নয়। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্গঘন হয়েছে। তলট বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের বিষয়ে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, মূলত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করতেই এই পকেট অভিযান করা হয়েছে। আজ ০৭ই আগস্ট বুধবার তলটবাজারের সব উচ্ছেদ করলেও আওয়ামিলীগ নেতা ও করমজা ইউপি-২ নং ওয়ার্ডর মেম্বার আঃ জব্বারের স্থাপনার উচ্ছেদ করা হয়নি। জানা যায়,নোটিশ না দিয়ে ঈদের আগে দ্রুততম সময়ের ইছামতী নদীর তীরবর্তী এই অবৈধ্য স্থাপনার উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে টনক নড়েছে গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি স্তরেও।
ইতিমধ্যে ইনভেস্টিগেশনের কাজ শুরু করেছে মিডিয়ার একটি মহল। অনুসন্ধানে যদি বেড়িয়ে আসে মূল রহস্য তবে হাইকোর্টের স্বরনাপন্ন হয়ে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি জানা গেছে। কোন নোটিশ ব্যতীত ঈদের আগে এই অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ ও দারিদ্র্য পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দ কল্পে পাবনা-১(সাঁথিয়া,বেড়া) আসনের আওয়ামী সংসদ সদস্য এ্যাড.শামসুল হক টুকুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮শে জুলাই রবিবার বেলা সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইছামতি নদীর আশেপাশের সকল অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে জেলা নদী রক্ষা কমিটির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক,মোঃ মোকলেছুর রহমান,এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম,বাপাউবো সহকারী পরিচালক,মোশারফফ হোসেন,ইছামতি নদী রক্ষার আন্দোলন পাবনা সভাপতিিএসএম মাহবুব আলম,বাংলাদেশ নদী বাঁচাও পাবনা জেলার সাধারণ সম্পাদ, শহিদুর রহমান,পাবনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি,মাহবুব উল আলম মুকুল ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন,জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আঃ রউফ সহ আরও অনেকেই। এসময়,সকলের উপস্থিতিতে পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেছেন,নদী খনেনের জন্য বাজেট আসা মাত্রই নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে খুব দ্রুত ইছামতির দু পাড়ের সকল অবৈধ্য স্হাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
উল্লেখ্য,পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এর বক্তব্যর সূত্রমতে কোন পরিবারকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে কিনা এবং নদী খননের বাজেট এসেছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রস্তত করা হচ্ছে।